প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
ঢাকা: দীর্ঘ দর-কষাকষি ও নাটকীয়তার পর ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশকে ছাড়াই ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য আসন সমঝোতা চূড়ান্ত করেছে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট। বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) রাতে রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনের (আইডিইবি) মুক্তিযোদ্ধা হলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ২৫৩টি আসনের প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করা হয়। এর মধ্যে তরুণ প্রজন্মের প্রতিনিধিত্বকারী দল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ৩০টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে।
সংবাদ সম্মেলনে জোটের শরিক দলগুলোর আসন সংখ্যা ঘোষণা করেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের। তিনি জানান, জোটে সমঝোতা হওয়া ২৫৩টি আসনের মধ্যে জামায়াতে ইসলামী লড়বে ১৭৯টিতে। এনসিপি ৩০টি আসন পেলেও জোটের অন্য দুই শরিক দল বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন এবং জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা) কোনো আসনে প্রার্থী না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তবে তারা জোটের সাথে থাকবে।
ইসলামী আন্দোলন সম্পর্কে ডা. তাহের বলেন, "ইসলামী আন্দোলনের জন্য ৪৭টি আসন ফাঁকা রাখা হয়েছিল। কিন্তু আসন বণ্টন নিয়ে সমঝোতা না হওয়ায় আপাতত তাদের বাদ রেখেই আমরা তালিকা ঘোষণা করেছি।" উল্লেখ্য, জামায়াতের পক্ষ থেকে ৪০টি আসন ছাড় দেওয়ার প্রস্তাব থাকলেও ইসলামী আন্দোলন ৫০টি আসনের দাবিতে অনড় ছিল। পরবর্তীতে ১৬ জানুয়ারি ইসলামী আন্দোলন এককভাবে ২৬৮ আসনে নির্বাচনের ঘোষণা দেয়।
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) জন্য বরাদ্দকৃত ৩০টি আসনের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ কিছু আসন হলো: পঞ্চগড়-১, দিনাজপুর-৫, রংপুর-৪, কুড়িগ্রাম-২, নাটোর-৩ (সিংড়া), সিরাজগঞ্জ-৬, পিরোজপুর-৩, টাঙ্গাইল-৩, ময়মনসিংহ-১১, মুন্সিগঞ্জ-২, ঢাকা-৮ (মতিঝিল-পল্টন), ঢাকা-৯, ঢাকা-১১, ঢাকা-১৮ (উত্তরা), ঢাকা-১৯ (সাভার), ঢাকা-২০ (ধামরাই), গাজীপুর-২, নরসিংদী-২, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ ও ৩, কুমিল্লা-৪, নোয়াখালী-২ ও ৬, লক্ষ্মীপুর-১, চট্টগ্রাম-৮, বান্দরবান এবং নারায়ণগঞ্জ-৪।
বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাসে জোটবদ্ধ নির্বাচনের সংস্কৃতি বেশ পুরনো। ১৯০০ সালের ব্রিটিশ আমল থেকে শুরু করে ১৯৫৪ সালের ‘যুক্তফ্রন্ট’ নির্বাচন ছিল এ অঞ্চলের প্রথম বড় কোনো রাজনৈতিক মোর্চা। এরপর ১৯৭১-এর মুক্তি সংগ্রাম এবং ১৯৯০-এর স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনেও জোটবদ্ধ শক্তির বিজয় দেখা গেছে।
তবে ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী ২০২৬ সালের এই নির্বাচনটি বাংলাদেশের রাজনীতির জন্য এক নতুন টার্নিং পয়েন্ট। প্রথমবারের মতো রাজনৈতিক দলগুলো প্রথাগত ধারার বাইরে গিয়ে 'নতুন বাংলাদেশ' গড়ার লক্ষ্যে এই ১১ দলীয় মোর্চা গঠন করেছে। ২০২৫ সালের সংস্কার কার্যক্রমের পর ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য এই নির্বাচনে এনসিপির মতো নতুন শক্তির উত্থান মূলত ৫২, ৭১ এবং চব্বিশের বিপ্লবেরই ধারাবাহিকতা। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জামায়াত ও এনসিপির এই মেলবন্ধন নির্বাচনী ময়দানে বড় ধরনের মেরুকরণ ঘটাতে পারে।
ইসলামী আন্দোলন জোট থেকে বেরিয়ে যাওয়ায় ভোটের অঙ্কে কিছুটা প্রভাব পড়ার শঙ্কা থাকলেও জামায়াত ও এনসিপি মনে করছে, তারা তরুণ ভোটারদের একটি বড় অংশকে আকৃষ্ট করতে পারবে। বিশেষ করে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামসহ বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের ছাত্রনেতাদের সরাসরি অংশগ্রহণ এই জোটকে বাড়তি শক্তি দিচ্ছে। ১৯০০ থেকে ২০২৬ পর্যন্ত বাংলার সংগ্রামী ইতিহাসে এবারই প্রথম ছাত্র ও ধর্মীয় শক্তির এমন বৃহৎ সমন্বয় দেখা যাচ্ছে, যা আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে অগ্নিপরীক্ষার সম্মুখীন হবে।
সূত্র: যুগান্তর, বাসস (BSS), প্রথম আলো, এবং ১৫ জানুয়ারি ২০২৬-এর সংবাদ সম্মেলন।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |